বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক জানাতে এসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন এবং মূল্যবোধ আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
কয়েক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসা জয়শঙ্কর আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাতে মিলিত হন। সেই বৈঠকের পর করা পোস্টে জয়শঙ্কর জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত শোকবার্তা বা চিঠি তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। ভারত সরকার এবং দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে তিনি মরহুমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ড. জয়শঙ্কর তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি আমি তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য এবং তাঁর আদর্শই হবে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথপ্রদর্শক।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার শীতল সম্পর্ক উষ্ণে করার ক্ষেত্রে জয়শঙ্করের এই সফর এবং তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি একটি বিশাল ‘ব্রেকথ্রু’ বা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। জয়শঙ্করই হলেন গত দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশে সফরকারী প্রথম কোনো ভারতীয় উচ্চপদস্থ মন্ত্রী। তারেক রহমানের হাতে মোদির ব্যক্তিগত চিঠি পৌঁছে দেওয়াকে বিএনপি ও ভারত সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহল।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান ভারতের এই ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাবের জন্য ড. জয়শঙ্কর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাসী ছিলেন। জয়শঙ্করের এই সফর প্রমাণ করে যে, বেগম খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও কতটা বিস্তৃত ছিল।
বিকেল ৩টার ঐতিহাসিক জানাজায় অংশ নেওয়ার পর এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ড. জয়শঙ্কর বিকেল ৪টার কিছু পরেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ‘পিপল টু পিপল’ এবং ‘পার্টি টু পার্টি’ সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

