বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিন জন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তারা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
শোকবইয়ে স্বাক্ষরকারী তিন উপদেষ্টা হলেন— আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারয়ার ফারুকী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। রাষ্ট্রীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বশীলগণ গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপদেষ্টাগণ সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং দেশবরণ্য এই নেত্রীর রাজনৈতিক অবদান ও জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন।
উপদেষ্টাবৃন্দ যখন শোকবইয়ে তাদের শোকবার্তা লিপিবদ্ধ করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। উপদেষ্টারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং রাজধানীর হাসপাতাল ও গুলশান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মর্যাদা এবং জাতীয় জীবনে তার গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত সারা দেশে এই শোক পালিত হবে। শোক চলাকালীন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়া, মরহুমার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শোকবইটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আগামীকাল জানাজা অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের এই শোকাতুর মুহূর্তে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন মহলের এই অংশগ্রহণ জাতীয় সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

