সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বেগম জিয়ার কবরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনে আসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার সংলগ্ন এলাকায় যেখানে বেগম জিয়ার কবর খনন করা হচ্ছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অর্জন এক নজরে: জন্ম: ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট (দিনাজপুর)। রাজনৈতিক যাত্রা: ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ।
আপসহীন নেত্রী: আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের কারণে এই উপাধি লাভ। আন্দোলনে সাতবার আটক ও গৃহবন্দি হয়েছিলেন তিনি। রেকর্ড: বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী (১৯৯১)। সংসদীয় ইতিহাসের কোনো আসনেই তিনি কখনও পরাজিত হননি।
শিক্ষা সংস্কার: বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ২০০৫ সালে ফোর্বসের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯তম স্থান এবং ২০১১ সালে নিউ জার্সি স্টেট সিনেট কর্তৃক ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধি লাভ।
বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসন ও কারাবন্দি জীবনের ধকল কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর তিনি পূর্ণ মুক্তি পেয়েছিলেন। আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শহীদ জিয়ার পাশেই তাঁকে সমাহিত করার মাধ্যমে এক বিশাল রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে।

