তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশেই সমাহিত করা হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সভাশেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজকের মন্ত্রিপরিষদ সভায় বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে গত সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলাপচারিতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বেগম জিয়ার মতো অভিজ্ঞ ও অভিভাবকতুল্য নেত্রীর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে মরহুমার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করতে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। জানাজা অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান করা হবে।
ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে আগামীকাল বুধবার থেকে আগামী শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এই শোকের প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি পালিত হবে। শোক পালনকালে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ‘আপসহীন’ নেত্রী। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর নয়াপল্টন কার্যালয় ও গুলশানের বাসভবনের সামনে শোকাতুর নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হতে পারে বিবেচনা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই বেগম জিয়ার অন্তিম শয়ানের স্থান নির্ধারণ করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সূত্রমতে, জানাজা শেষে সামরিক ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হবে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে আগামীকাল ভোর থেকেই সারাদেশের মানুষ ঢাকার অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

