বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একই সঙ্গে মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা প্রদান করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের অংশ হিসেবে আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এই সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। শোকের এই প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ও কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। এ দেশের গণতন্ত্র রক্ষা, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অসামান্য অবদান ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে। বিশেষ করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার আলোর পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে বেগম জিয়ার আপসহীন ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শোকের এই আবেগঘন মুহূর্তে আমি সবার প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা জানাজাসহ প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতায় শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। জাতির এই কঠিন সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ যেন এই শোককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ‘দেশনেত্রী’। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ নানাবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সারাদেশে দলমত নির্বিশেষে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আগামীকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে প্রশাসন। বেগম জিয়ার এই প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

