দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আগারগাঁও এবং নির্বাচন ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। মূলত ভোটার হিসেবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই তিনি আজ ইসিতে আসছেন।
সকাল থেকেই সরেজমিনে দেখা গেছে, আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং এর চারপাশের এলাকা এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রূপান্তর করা হয়েছে। ইসি ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব এবং আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ইসি সচিবালয়ে আগত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও দর্শনার্থীদের পরিচয়পত্র একাধিকবার নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি ভবনের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কয়েক স্তরের মেটাল ডিটেক্টর এবং শারীরিক তল্লাশি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইনের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, যে কোনো যোগ্য নাগরিক যে কোনো সময় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও সাধারণ নাগরিকদের মতো তথ্য যাচাই, ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আইনগতভাবে তাঁর ভোটার হতে কোনো বাধা নেই এবং কমিশন প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বীরের বেশে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি পূর্বাচলের বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণ দেন এবং পরবর্তীতে তাঁর অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রাথমিক শর্ত হিসেবেই তিনি আজ দ্রুততম সময়ে ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই নির্বাচন কমিশন সফর শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির একটি শক্তিশালী বার্তা। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের দপ্তরে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরার লক্ষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইসি সচিবালয়ের কাজ শেষ করে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যাবেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

