দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে কাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ‘রাজসিক প্রত্যাবর্তন’কে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ পুরো বিভাগজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম গণসংবর্ধনায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে প্রায় ৭ থেকে ১০ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন।
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির তথ্যমতে, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকেই এক লক্ষাধিক নেতাকর্মী ঢাকায় যাচ্ছেন। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে সড়ক ও রেলপথের সব ধরনের যানবাহনকে কাজে লাগানো হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে কয়েক দফায় নেতাকর্মীরা ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছেন। আজ বুধবার বিকেল থেকে যাত্রার গতি আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন নেতারা: বিশেষ ট্রেন: নেতাকর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্সবাজার-ঢাকা রুটে বিশেষ ট্রেন ছাড়াও নিয়মিত ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে।
সড়ক পথ: মহানগর ও জেলাগুলো থেকে কয়েক হাজার বাস, মাইক্রোবাস ও হাইয়েস গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। উত্তর জেলা যুবদলের তথ্যমতে, শুধু হাটহাজারী থেকেই ১০০টি বাস ও ৮৫টি মাইক্রোবাস রওনা হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ: দলীয় যানবাহনের বাইরেও কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিজস্ব মাইক্রোবাস, হাইয়েস এমনকি বিমানে করেও প্রিয় নেতাকে বরণ করতে ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান জানিয়েছেন, মানুষের মধ্যে এতটাই স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে যে, চাহিদামত যানবাহন জোগাড় করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “দুটি বিশেষ ট্রেনের সব এবং অন্যটির অর্ধেক টিকিট আমরা নিতে পেরেছি। এছাড়া মহানগর থেকেই অন্তত ২০০ বাস ও শতাধিক মাইক্রোবাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকলেও সবসময় নেতাকর্মীদের হৃদয়ে ছিলেন। এখন তাঁকে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে মানুষ খুশিতে আত্মহারা। এই সংবর্ধনা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি জনমানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।”
উল্লেখ্য যে, আগামীকাল দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ আজ রাতের মধ্যেই সংবর্ধনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেবেন বলে জানা গেছে।

