ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও তরুণ রাজনীতিক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনে বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে মাথায় গুলি করা হয়। দীর্ঘ ছয় দিন দেশ ও বিদেশে (সিঙ্গাপুর) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর একটি চিত্র ফুটে উঠেছে:
১. আসামিদের অবস্থান ও তদন্তের অগ্রগতি প্রধান আসামির অবস্থান: হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, “সে দেশেও থাকতে পারে, বাইরেও থাকতে পারে।” তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, আসামি যদি দেশের বাইরে গিয়েও থাকে, তবে তা কোনো বৈধ পথে হয়নি।
১০ জন গ্রেপ্তার: হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী (পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বাবা-মা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ ও শিপু এবং মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নান রয়েছেন।
অস্বাভাবিক লেনদেন: সিআইডির তদন্তে ফয়সাল করিম ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানি লন্ডারিং বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. বিচার প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল: আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঘোষণা দিয়েছেন যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ অনুযায়ী, অভিযোগপত্র বা পুলিশ রিপোর্ট আসার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এই বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সুষ্ঠু তদন্ত ও ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সিআইডিকে ওসমান হাদির ডিএনএ নমুনা ও প্রোফাইল সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. নিরাপত্তা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তারেক রহমানের নিরাপত্তা: আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আগমন উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা: রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকির মুখে থাকা বা ‘হিটলিস্ট’-এ আছেন এমন ২০ জন রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিগত গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (DGFI, NSI, SB) তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পদত্যাগ গুঞ্জন: নিজের পদত্যাগ সংক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন দাবি করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পদত্যাগ করলে তো আর এখানে বসতাম না।”

