জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী। হাদির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায়ভার গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাকে সাথে নিয়ে দেশব্যাপী কঠোর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির সমাধি চত্বরে হাদির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী শাহবাগে জড়ো হন। সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশে বক্তারা হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা বলেন, হাদির মতো একজন উদীয়মান নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা প্রশাসনের চরম অযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং একটি স্বাধীন দেশের রাজপথে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই। একইসাথে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।” তারা আরও সতর্ক করে বলেন যে, শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং রাজপথ থেকেই এই ইনসাফের লড়াই চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কবির সমাধিসৌধের পাশে হাদির দাফন সম্পন্ন হয়। এই শোকাবহ মুহূর্তে দাফনস্থলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রতিনিধি, ডাকসুর প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ এবং হাদির সহযোদ্ধারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে শেষ বিদায় জানান। উপাচার্য হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাকে একজন নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক তরুণ হিসেবে অভিহিত করেন।
শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজার ইমামতি করেন তার বড় ভাই মাওলানা ড. আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হাদির এই অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকার বুকে একজন রাজনৈতিক মুখপাত্রের ওপর এমন হামলা জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে।
বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের এই আলটিমেটাম সরকারের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার হাদি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মৃত্যু এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অস্থিরতা ও জবাবদিহিতার দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

