জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদির পার্থিব দেহ আজ সন্ধ্যায় স্বদেশে ফিরে আসছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে টানা ছয়দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তার এই অকাল ও বিয়োগান্তক মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের আবহ বিরাজ করছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহবাহী বিশেষ বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে এবং আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ শুক্রবার সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে (বিজি ৫৮৫) শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করা হয়েছে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এর আগে আজ সকালে সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক দ্য আঙ্গুলিয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এই বীর সেনানিকে চোখের জলে বিদায় জানান।
শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি হাদিকে ‘নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের সারথি’ হিসেবে অভিহিত করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদির আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। এছাড়াও শহীদ হাদির পরিবার ও তার একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ঢাকা-৮ আসনের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহ দেশে আসার খবরে ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকাতুর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে একটি বিশেষ শোক মিছিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিতব্য জানাজাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। আয়োজক সংগঠনটি দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে এই জানাজায় শরীক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের এক মূর্ত প্রতীক। তার মৃত্যুতে দেশ এক তরুণ ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে হারাল। আন্দোলনকারীরা বলছেন, হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা প্রতিটি কুশীলবকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। আগামীকাল মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা শেষে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

