Close Menu
Bolte CaiBolte Cai
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Bolte CaiBolte Cai
    Subscribe
    • Home
    • জাতীয়
    • রাজনীতি
    • আন্তর্জাতিক
    • সারাদেশ
    • অর্থনীতি
    • বিনোদন
    • খেলা
    • লাইফস্টাইল
    • মতামত
    Bolte CaiBolte Cai
    Home»মতামত»বিজয় দিবস: একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি নাকি অন্তহীন এক সংগ্রামের সূচনা?
    মতামত

    বিজয় দিবস: একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি নাকি অন্তহীন এক সংগ্রামের সূচনা?

    News DeskBy News DeskDecember 16, 2025No Comments4 Mins Read
    Share Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Telegram Email Copy Link
    Follow Us
    Google News Flipboard
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

    ১৬ ডিসেম্বর-বাঙালি জাতির ইতিহাসে এই দিনটি কেবল একটি তারিখ বা পঞ্জিকার পাতা নয়; এটি কোটি প্রাণের স্পন্দন, রক্তে লেখা এক অবিনাশী মহাকাব্য এবং দীর্ঘ বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত হুঙ্কার। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আমরা মানচিত্রে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের এক সুগভীর প্রশ্ন আজও জনমনে প্রতিধ্বনিত হয়-১৬ ডিসেম্বর কি কেবলই একটি যুদ্ধের শেষ দিন ছিল, নাকি এই বিজয়ই আমাদের ঠেলে দিয়েছিল এক নতুন, দীর্ঘস্থায়ী এবং নিঃশব্দ যুদ্ধের মোহনায়?

    বাংলাদেশ প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বরকে পরম শ্রদ্ধায় বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের পর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সেদিন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছিল। তবে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একটি কঠিন প্রশ্ন আমাদের বারবার নাড়া দিয়ে যায়: এই বিজয় কি কেবল একটি নির্দিষ্ট শত্রুশক্তির বিরুদ্ধে জয়, নাকি এর মাধ্যমেই সূচিত হয়েছিল রাষ্ট্র গঠন, সামাজিক ন্যায়বিচার, আত্মপরিচয় রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক কঠিনতর সংগ্রাম?

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দৃশ্যমান এক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই। সেই যুদ্ধ ছিল সরাসরি অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে, দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং একটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন যন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু স্বাধীনতার লাল সূর্য উদিত হওয়ার পর বাংলাদেশে যে নতুন লড়াই শুরু হলো, তা ছিল আরও অনেক বেশি জটিল এবং গভীর। কারণ এই পর্যায়ে শত্রু আর সীমান্তে ছিল না, শত্রু ছিল অদৃশ্য। এই নতুন যুদ্ধের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হলো মানুষের সীমাহীন লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার, গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে একনায়কতন্ত্র, দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য।

    একদিকে বিজয় দিবস আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সামরিক পরিসমাপ্তিকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে এটি আমাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অন্তহীন পথ। যেখানে প্রতিপক্ষ কোনো বন্দুকধারী সৈন্য নয়, বরং ক্ষুধা, দারিদ্র্য, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং গভীর শাসনতান্ত্রিক সংকট। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এসেও যখন আমরা বিজয়ের পতাকা ওড়াই, তখন সেই পতাকার ছায়াতলেই দৃশ্যমান হয় এক কণ্টকাকীর্ণ সত্য—আমরা হয়তো ভিনদেশি শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু নিজেদের ভেতরের অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল ঠিক ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকেই। সেই যুদ্ধ আজও সমানভাবে চলমান।

    পাকিস্তানি শাসনের অবসান ছিল মূলত একটি রুদ্ধ দুয়ার খুলে যাওয়ার মতো ঘটনা। কিন্তু সেই দুয়ারের ওপারে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক রূঢ় বাস্তবতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অবকাঠামো, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বিশাল শূন্যতা। তাই বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের কোনো যুদ্ধের শেষ নয়, বরং এক যুদ্ধের বিজয় এবং ভিন্নধর্মী আরেক যুদ্ধের প্রারম্ভিক বিন্দু। স্বাধীনতার পর শুরু হওয়া এই ‘দ্বিতীয় যুদ্ধ’ প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র নির্মাণের যুদ্ধ; এটি অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, নাগরিক মর্যাদা এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

    আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সত্য কথাটি হলো, ১৬ ডিসেম্বরের পর শুরু হওয়া এই নতুন যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আজও এ দেশের সাধারণ মানুষ লড়ছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য। এই লড়াইটি আরও বেশি কঠিন, কারণ এখানে প্রতিপক্ষ আমাদের নিজেদেরই বিবেকের বিকৃতি, নৈতিক অবক্ষয় এবং দুর্নীতির বিষবাষ্প। একসময় শত্রু হিসেবে পাকিস্তানকে চিহ্নিত করা সহজ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সুশাসন ও সততার পথে যে অন্তরায়গুলো কাজ করছে, তা আমাদের অভ্যন্তরীণ সংকটেরই ফসল। এই যুদ্ধে পরাজয়ের দায়ভার অন্য কারও ওপর চাপানোর সুযোগ নেই; এই ব্যর্থতা বা সফলতার গ্লানি ও গৌরব—উভয়ই সমগ্র জাতির।

    বিজয় দিবসের এতগুলো বছর পর আজও একটি প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—আমরা কি সত্যিই স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি? নাকি প্রতিদিন আমাদের এক নতুন যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে কেবল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে? বিজয় দিবস তাই কেবল উৎসবের বা আতশবাজি ফোটানোর দিন নয়। এটি আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দৃশ্যমান যুদ্ধের রূপ হয়তো বদলেছে, কিন্তু সংগ্রামের ধারাটি এখনো বহমান। এই রূপান্তরিত যুদ্ধের উত্তরাধিকারী হিসেবে আমরা প্রত্যেকেই আজ দায়বদ্ধ।

    বিজয় দিবস আনন্দের দিন হিসেবে গণ্য হলেও, এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে গভীর জবাবদিহিতার বার্তা। এই দিনটি আমাদের শিখিয়েছে যে, সশস্ত্র শত্রুকে পরাজিত করা হয়তো সম্ভব, কিন্তু নিজের ভেতরের অন্ধকারকে জয় করা এবং মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখা অত্যন্ত কঠিন। দখলদার বাহিনীকে বিতাড়িত করা বীরত্বের কাজ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন আর সাম্য প্রতিষ্ঠা করা তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ।

    তাই ১৬ ডিসেম্বর বারবার এক জ্বলন্ত প্রশ্নের মতো আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়—পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান কি সত্যিই সব সংকটের সমাধান ছিল? নাকি সেদিন থেকেই আমরা শুরু করেছিলাম নিজেদের পরিবর্তন করার এক দীর্ঘ ও ভয়ংকর যুদ্ধ? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং সেই যুদ্ধে জয়ী হওয়াই হোক আমাদের আজকের বিজয় দিবসের প্রকৃত অঙ্গীকার।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    News Desk
    • Website

    Related Posts

    আপসহীন এক নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ, ইতিহাসের দর্পণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

    January 2, 2026

    নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি: রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও তাত্ত্বিক কাঠামোর এক গভীর পর্যালোচনা

    December 27, 2025

    পুলিশের পোশাক ও মানসিকতা: নিছক রঙের পরিবর্তন নাকি কাঠামোগত সংস্কারের দাবি?

    December 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    b c.png
    Facebook X-twitter Youtube Telegram
    • ১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৭
    • +৮৮০১৬১২-০৭৭৭৭৭
    • [email protected]
    • About Us
    • Contact Us
    • Privacy Policy
    • Terms & Condition
    • DMCA

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.