নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কল্যাণমুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লার লাকসামের ঐতিহাসিক মুদাফফরগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে অন্যরকম এক আবেগ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ মুদাফফরগঞ্জ বাজারে জড়ো হতে শুরু করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি হলো জনগণের সাথে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সততা। বিএনপি বরাবরের মতোই জনমানুষের অধিকার ও কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। নির্বাচনের আগে দেশের প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, সরকার এখন তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তারই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। তিনি লাকসামের স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই অঞ্চলের কোনো যোগ্য পরিবারই সরকারের এই বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জনপদে এই সেবামূলক কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সামনে আসতে যাওয়া জাতীয় বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে প্রধানমন্ত্রী এক বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী জুন মাসে পেশ হতে যাওয়া নতুন অর্থ বছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসন কাজ করছে।
বিগত সাধারণ নির্বাচনে দেশের মানুষ যে বিপুল প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, সেই আমানতের মর্যাদা রক্ষার কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে যে আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে, বর্তমান সরকার তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে। জনগণের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি পূরণ করাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তৃণমূলের সাধারণ মানুষের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যেভাবে অতীতে পাশে ছিলেন, ঠিক একইভাবে আগামী দিনেও বিএনপির হাতকে শক্তিশালী রাখুন। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই পারে একটি দেশকে সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যেতে।
বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিএনপি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
লাকসামের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিটি স্থানীয় নেতৃত্বের চমৎকার সমন্বয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় উপজেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে পুরো লাকসাম এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন। দুপুরের কড়া রোদ সত্ত্বেও হাজারো মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের গুরুত্ব কতটা গভীর।
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাব দিয়ে সড়কপথে তার পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। লাকসামের এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ সফর স্থানীয় রাজনীতি এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

