সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার একটি নিভৃত গ্রামে বসতবাড়ির বিভিন্ন স্থানে বোমা সদৃশ বস্তু ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি জানাজানি হয়। জনমনে ভীতি সঞ্চার করতে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে চন্দনপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে রাতে তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির প্রধান ফটক, রান্নাঘরের দরজা এবং উঠানের এক কোণে তিনটি সন্দেহজনক বস্তু ঝুলতে দেখে তাদের পিলে চমকে যায়। লাল স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো বস্তুগুলো দেখতে হুবহু হাতবোমার মতো হওয়ায় মুহূর্তেই পুরো গ্রামে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।
আতঙ্কিত গ্রামবাসী বিষয়টি কলারোয়া থানা পুলিশকে জানালে দ্রুত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাড়ির সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয় এবং পুরো এলাকা ফিতা দিয়ে ঘিরে ফেলে। কৌতুহলী জনতাকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।
বাড়ির এক সদস্য বলেন, “সকালে উঠে যখন দরজায় ওমন লাল টেপে মোড়ানো জিনিসগুলো ঝুলতে দেখলাম, আমাদের হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল। কার সাথে কী শত্রুতা তা জানি না, কিন্তু আমাদের মেরে ফেলার ভয় দেখানো হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোকে শক্তিশালী হাতবোমা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বড় কোনো ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ এখনই সেগুলো নাড়াচাড়া করছে না। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা পৌঁছানোর পর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো সচল বোমা নাকি কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য সাজানো কোনো বস্তু।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বা পারিবারিক কোনো বিরোধের জেরে পরিবারটিকে ভয় দেখানোর জন্য এই কাজ করা হতে পারে। তবে এর পেছনে কোনো সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের হাত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত বাড়িটি পুলিশি পাহারায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সাতক্ষীরার সীমান্তঘেঁষা এই জনপদে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

