দেশের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষে আজ টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারতের কথা থাকলেও যান্ত্রিক বা কৌশলগত কারণে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সরাসরি স্টেডিয়াম সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থলে অবতরণ করেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, দুপুরের কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলা উদ্বোধন শেষে তিনি কাগমারীতে গিয়ে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।
এবারের সফরের মূল আকর্ষণ হলো ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি। মূলত কৃষকদের সরাসরি সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ ব্লকের ১,৪৫৩ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসছেন।
শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামের জনাকীর্ণ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে এই আধুনিক কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ পাবেন। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, এই পাইলট প্রজেক্টের সফলতার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারাদেশে সকল কৃষকের হাতে এই ডিজিটাল কার্ড পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী কৃষিকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিকে আধুনিকায়ন করার এই প্রচেষ্টা সরাসরি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত বিশাল কৃষি মেলা পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। মেলায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি এবং উন্নত মানের শস্য প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে। সেখানে স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে টাঙ্গাইল শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তোরণ ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
বিকেল নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর কাগমারী যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করবেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবং কৃষক আন্দোলনে মওলানা ভাসানীর অবদান স্মরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তার সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই জিয়ারতকে রেখেছেন।
সরকারি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে কৃষকদের তালিকাভুক্ত করা হলে প্রকৃত কৃষকরাই রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কৃষকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কার্ড পাওয়া তাদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
বিকেলে সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর আকাশপথেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সফর টাঙ্গাইলের কৃষি ও রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

