শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়ার রাজনৈতিক মাঠে আবারও আধিপত্যের জানান দিচ্ছে বিএনপি। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পালা। তবে প্রাথমিক ও বেসরকারিভাবে পাওয়া ৯০টি কেন্দ্রের ফলাফলেই জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিনি দ্বিগুণেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোনো বিরতি ছাড়াই ভোট শেষে শুরু হয় গণনা। এই আসনের মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে।
প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৮৬ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪৩২ ভোট। ভোটের এই ব্যবধান এতটাই বেশি যে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাকি কেন্দ্রগুলোতে অলৌকিক কিছু না ঘটলে রেজাউল করিম বাদশার জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, এ আসনে পোস্টাল ব্যালট বাদে মোট ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে ধাপে ধাপে প্রাপ্ত ফলাফলগুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত বেসরকারি ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বগুড়া সদর আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর সাথে ভোটের ব্যবধান কতটা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি ভোটারদের আস্থা এখনো অটুট।
ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে কোথাও কোনো বড় ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সাধারণ ভোটাররাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। জয় নিশ্চিত জেনে অনেককেই আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজয় মিছিল বা জমায়েতের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
রাতের মধ্যেই ১৫০টি কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছে জেলা নির্বাচন কমিশন। তবে ৯০ কেন্দ্রের এই বিশাল ব্যবধান বগুড়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

