সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ আবহে ভোটগ্রহণ চলার দাবি করা হলেও দুপুর গড়াতেই নাটকীয় মোড় নিল শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচন। নির্বাচনে নানা ধরনের অনিয়ম, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ভোটগ্রহণে কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালেই তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান।
মাসুদুর রহমানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে নির্বাচনী এলাকায় নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নানা অনিয়মের খবর আমাদের কাছে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের প্রার্থী এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে বিস্তারিত কারণ এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরতে আজ বিকেল ৩টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে জেলা জামায়াত। সেখান থেকেই তারা পরবর্তী কর্মসূচি বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে জানা গেছে।
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে শুরু থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল প্রশাসন। ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছিল। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের রায় দিচ্ছেন।
এ আসনে মাসুদুর রহমানের সরে দাঁড়ানোর ফলে ভোটের মূল লড়াই এখন অনেকটা একপাক্ষিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান মুখ হিসেবে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক দেখা গেলেও দুপুরের এই বর্জনের ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
স্থানীয় ভোটারদের অনেকে বলছেন, সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভোটগ্রহণের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ ছিল। তার ওপর প্রধান একজন প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট বর্জনের ঘোষণা সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে জেলা নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত এই বর্জনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি ও র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্সগুলো বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে যাতে বর্জনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে কী ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

