যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আলবানি এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। গত সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে রয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের মো. হীরামন (৬০), তার ছেলে নাজমুল রোবেল (৩০) এবং তাদের পারিবারিক বন্ধু ফাহিম আলিম (২৭)। তারা সবাই নিউইয়র্কের লাউডনভিল এলাকায় বসবাস করতেন। মর্মান্তিক এই সংবাদে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং তাদের দেশের বাড়ি কুমিল্লায় শোকের মাতম চলছে।
দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন নাজমুল রোবেল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় তারা একটি প্রাইভেটকারে চড়ে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। আলবানির রুট ৯-এইচ সড়কের ভ্যান ওয়াইক লেনে পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি সড়কের ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, গাড়ি দুটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন বাংলাদেশিসহ চারজন প্রাণ হারান। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা এসে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় আলবানি হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহত হীরামনের বড় মেয়ে রত্না (৩৩) এবং তার এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা। তাদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত হীরামনের ছোট বোন রাজিয়া বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রবাসে এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। যে মানুষগুলো আনন্দ করতে বেরিয়েছিল, তারা ফিরল নিথর দেহ হয়ে। এই শোক সহ্য করার মতো নয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন হাসপাতালে রত্না ও ছোট্ট ইকরার জীবন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি জানিয়েছে, নিহতদের জানাজার সময় নির্ধারিত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রনক্সের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে তাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাদের মরদেহ দাফনের জন্য নিউ জার্সির মার্লবুরো মুসলিম সিমেটেরিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এমন দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা না হলেও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু পুরো কমিউনিটিতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রবাসী শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তারা বলছেন, বিদেশের রাস্তায় একটু অসতর্কতা কীভাবে একটি সাজানো গোছানো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে, এই দুর্ঘটনা তারই প্রমাণ।
বর্তমানে আলবানি পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসুস্থতা ছিল, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত কুমিল্লার মুরাদনগর এবং নিউইয়র্কের লাউডনভিলে শুধুই কান্নার রোল। স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

