লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে খালের তলদেশ থেকে একের পর এক উঠে এল ডিজেলভর্তি বিশালাকার প্লাস্টিকের ড্রাম। বুধবার দুপুরে উপজেলার রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আসলপাড়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংলগ্ন একটি খাল থেকে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করে পুলিশ। কোনো এক অসাধু চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই পানির নিচে এই অভিনব কায়দায় তেল মজুত করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসলপাড়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের খালে অস্বাভাবিক কিছু ড্রাম ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামগতি থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। একে একে জলকাদা মাখা আটটি পুরনো প্লাস্টিকের ড্রাম কূলে টেনে তোলা হয়।
পুলিশ সদস্যরা ড্রামগুলোর মুখ খুলতেই বেরিয়ে আসে গাঢ় রঙের তরল। প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রতিটি ড্রামেই ভর্তি রয়েছে ডিজেল। পুলিশি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ড্রামে ১৭০ লিটার করে মোট ১ হাজার ৩৬০ লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তবে অভিযানের সময় বা এর আগে-পরে ওই এলাকায় তেলের কোনো মালিক বা দাবিদার খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করেছে। তিনি বলেন, “খালের ভেতর ড্রামগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছিল। আমরা খবর পেয়েই অভিযান চালিয়ে সেগুলো জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে এসেছি।”
ওসি আরও যোগ করেন যে, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বা অসাধু জ্বালানি ব্যবসায়ীর হাত থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও, এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল কারা এবং কেন সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
উপকূলীয় এই অঞ্চলে মৎস্য আহরণের মৌসুমে ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোনো অসাধু চক্র এই মজুদদারি গড়ে তুলেছিল কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন চলছে। উদ্ধারকৃত তেল বর্তমানে রাষ্ট্রীয় জিম্মায় রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লোকচক্ষুর অন্তরালে খালের পানির নিচে জ্বালানি তেল লুকিয়ে রাখার এই ঘটনা পুরো এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

