রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাতের এই ভয়াবহ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। অন্ধকার রাতে উত্তাল পদ্মায় বাসটি তলিয়ে যাওয়ায় এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, দিবাগত রাত সাড় ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ নদী থেকে বাসটিকে টেনে উপরে নিয়ে আসে। বাসটি যখন উপরে তোলা হয়, তখন সেটির ভেতর থেকে একে একে ১২ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগে বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পরপরই স্থানীয়রা ঝাঁপিয়ে পড়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, উদ্ধারকৃত ১৪টি মরদেহ বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “বাসটি পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজ দ্রুত কাজ শুরু করায় বাসটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো আমাদের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।”
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে রাতের নিস্তব্ধতা। অনেকে প্রিয়জনের ছবি হাতে নিয়ে উদ্ধারকর্মীদের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন। জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মানুষদের ফিরে পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও উদ্ধারকাজ এক মুহূর্তের জন্য থামেনি।
এদিকে, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে সেখানে অবস্থান করছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাতভর চলা এই অভিযানে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর খবর পাওয়া যায়। তবে এবারের এই দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ফেরিঘাটের পন্টুনের অবস্থা বা বাসের যান্ত্রিক কোনো ক্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত নিখোঁজ বাকি যাত্রীদের উদ্ধারের বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন।

