রমজান ও ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার আগেই গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কোনাবাড়ীতে দানা বেঁধেছে শ্রমিক অসন্তোষ। বকেয়া নাইট বিল এবং বাৎসরিক ছুটির পাওনা টাকার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন ‘রিপন নিটওয়্যার লিমিটেড’-এর কয়েকশ শ্রমিক। মহানগরীর জরুন এলাকায় অবস্থিত এই কারখানার মূল ফটকে শ্রমিকদের অবস্থান ও স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিবেশ।
শিল্প পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল এবং অর্জিত ছুটির (Annual Leave) টাকা পরিশোধের জন্য শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজমেন্টের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু দফায় দফায় সময় নিয়েও কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধ না করায় বুধবার দুপুর থেকেই কাজ বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। আজ সকালে সেই ক্ষোভ বিক্ষোভে রূপ নেয়, যখন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
কারখানার ভেতরে ও বাইরে এখন থমথমে অবস্থা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একজন আলম হোসেন তার দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে ক্ষোভের স্বরে বলেন, “সামনে রোজা আর ঈদ। এই সময়ে পরিবার নিয়ে চলার জন্য অনেক খরচ লাগে। আমরা সারা রাত জেগে ডিউটি করেছি, অথচ আমাদের হকের নাইট বিলটুকু দিচ্ছে না মালিকপক্ষ। এখন চাইলে তারা বাহানা দিচ্ছে। ঈদের বোনাস দেওয়ার সময় হলে হয়তো আবারও নতুন কোনো নাটক শুরু করবে।”
শ্রমিকদের এই অভিযোগের বিপরীতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সুর কিছুটা নরম হলেও শর্তসাপেক্ষ। রিপন নিটওয়্যার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, তারা শ্রমিকদের পাওনা অস্বীকার করছেন না। তিনি বলেন, “যাঁরা তিন মাসের নাইট বিল পাবেন, তাঁদের এক মাসের টাকা আজই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা পুরো টাকা একসঙ্গে না পেলে কাজে ফিরতে রাজি নন।”
এই অচলাবস্থা নিরসনে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ (কোনাবাড়ী জোন)-এর পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত শান্ত রয়েছে তবে শ্রমিকরা কাজে ফেরেননি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মালিকপক্ষ বর্তমানে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে বসার চেষ্টা করছে।
শিল্পাঞ্চলের এই অস্থিরতা কেবল একটি কারখানার চিত্র নয়, বরং প্রতি বছর ঈদের আগে বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে যে চিরাচরিত টানাপোড়েন চলে, এটি তারই একটি অংশ। সাধারণ শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ঘাম ঝরানো টাকা সময়মতো পরিশোধ করলে রাজপথে নামার কোনো প্রয়োজন হতো না। এখন দেখার বিষয়, আলোচনার টেবিলে শ্রমিকদের অভাব পূরণ হয় নাকি বিক্ষোভের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

