বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্রে কুমিল্লা জেলার গুরুত্ব আরও একবার সুস্পষ্ট হলো। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেওয়া নতুন মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা থেকে জায়গা করে নিয়েছেন তিন প্রভাবশালী নেতা। তারা হলেন—শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জাকারিয়া তাহের সুমন এবং হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। একই জেলা থেকে তিনজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার এই খবরে পুরো কুমিল্লাজুড়ে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।
মঙ্গলবার সকালে যখন এই তিন নেতার কাছে মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ফোন আসে, মুহূর্তেই সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোমতী তীরের জনপদে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই তিন ‘রত্ন’। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে কুমিল্লার এই তিন কান্ডারি এখন দেশ পরিচালনার নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হলেন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে এবার নিয়ে মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জেলার রাজনীতির এক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার এই নতুন দায়িত্বকে মুরাদনগরের সাধারণ মানুষ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফল হিসেবে দেখছেন। অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ কায়কোবাদ নতুন প্রশাসনে বড় কোনো ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন সরকারে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার এই নিয়োগ বরুড়া তথা কুমিল্লার অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন জেলাবাসী।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে নিয়ে। কুমিল্লা-৬ আসনে প্রতিকূল পরিবেশেও বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখা এই নেতাকে দল এবার বড় পুরস্কার দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং পুরো কুমিল্লা দক্ষিণের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়ন করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই তিন মন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, একযোগে জেলা থেকে তিন মন্ত্রী পাওয়ায় কুমিল্লার ঝুলে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোর দিক থেকে সমৃদ্ধ এই জেলা এখন নতুন এক প্রশাসনিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো।
সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই তিন মন্ত্রী কুমিল্লার উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন—এমনটাই এখন জেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা। রাজপথের লড়াই পেরিয়ে প্রশাসনের উচ্চাসনে কুমিল্লার এই তিন প্রতিনিধির যাত্রা জেলাটির ইতিহাসে এক নতুন সোনালী অধ্যায় যোগ করল।

