কুমিল্লার দেবিদ্বারে বইছে বিজয়ের উৎসব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও রাকিবুল ইসলাম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
দেবিদ্বার উপজেলার মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই হাসনাত আব্দুল্লাহ তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। নির্বাচনের শুরু থেকেই হাসনাতের পক্ষে এক ধরনের গণজোয়ার তৈরি হয়েছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে। ইউএনও রাকিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী হাসনাত আব্দুল্লাহর বিজয় এখন সুনিশ্চিত।
এবারের নির্বাচনে হাসনাত আব্দুল্লাহর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এবং বিএনপি সমর্থিত ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিন। তবে নির্বাচনের দিন বিকেল ৫টার দিকে এক ফেসবুক লাইভে এসে জসীম উদ্দিন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তার অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় নেই। তবে তার এই ঘোষণা হাসনাতের বিজয়কে আরও সহজ করে দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেবিদ্বার আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন। সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একঘেয়ে রাজনীতির বাইরে হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো একজন তরুণ ও ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মুখকে পেয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররাই হাসনাতের বিজয়ের মূল কারিগর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজয়ী হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকরা দেবিদ্বার সদরে আনন্দ মিছিল বের করেন। হাসনাত তার এই জয়কে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, “দেবিদ্বারের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি তাদের আমানত রক্ষায় কাজ করে যাব এবং এই এলাকাকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।”
উল্লেখ্য, হাসনাত আব্দুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। তার এই জয় জাতীয় রাজনীতিতেও এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাত বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

