ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা তার জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দিনটিকে তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে অভিহিত করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জনপ্রিয় এই ইসলামি বক্তা বলেন, “আমি আজ জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। এর আগে নানা প্রতিকূলতার কারণে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। আজ ভোট দিতে পেরে আমার মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ উদযাপন করছি। আশা করি, পুরো দেশ আজ এই ঈদের আনন্দ নিয়ে নতুন এক সূচনার সাক্ষী হবে।”
কুষ্টিয়া সদর আসনের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমির হামজা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো ধরনের বড় সহিংসতার খবর আসেনি। নির্বাচনী এলাকার ১৪২টি কেন্দ্রেই তার পোলিং এজেন্টরা সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি প্রতিটি কেন্দ্র ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করব। এখন পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ঠিক আছে বলে মনে হচ্ছে।”
জয়ের ব্যাপারে তিনি কতটা আশাবাদী—এমন প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা হাসিমুখে বলেন, তিনি শতভাগ নিশ্চিত যে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি নির্বাচিত হন তবে কুষ্টিয়া সদরকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ এলাকায় পরিণত করবেন। তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের যেকোনো রায় তিনি মাথা পেতে নেবেন।
একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেছেন। তিনিও এখন পর্যন্ত ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর এমন সন্তোষজনক বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনেই সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলার ৬৬টি ইউনিয়ন এবং ৪টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই চারটি আসনে মোট ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল দল নজরদারি চালাচ্ছে। কুষ্টিয়া সদরসহ অন্যান্য আসনগুলোতেও বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য দলের ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আমির হামজা সাংবাদিকদের মাধ্যমে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সবাই যেন কেন্দ্রে এসে নিজেদের আমানত রক্ষা করেন। বিকেলের দিকে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজকের এই ভোটগ্রহণ একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

