ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে স্বতঃস্ফূর্ততা আমি দেখছি, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। দীর্ঘ সময় পর মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমি ফলের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।” তবে জয়ের আশার পাশাপাশি তিনি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে কিছু উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, তার নির্বাচনী এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলার অন্তত আটটি ভোটকেন্দ্র বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কারচুপি বা অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ থেকে ভোটরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
আশুগঞ্জের সোহাগপুর এলাকায় তার দুই কর্মীর কারাদণ্ড প্রসঙ্গেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রুমিন ফারহানা দাবি করেন, তার কর্মীরা কেন্দ্রের পাশেই অবস্থান করছিলেন, কিন্তু ভুল তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তাদের অনুপ্রবেশকারী সাজিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং একটি ভুল বোঝাবুঝি।
শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মহসিন জানান, সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। রুমিন ফারহানা ভোট দেওয়ার সময় পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ৪৬২টি ভোট সংগৃহীত হয়েছিল। কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৩৪৫ জন হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জুনায়েদ আল হাবিব। প্রচারণার শুরু থেকেই ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে বাকবিতণ্ডা এবং স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে রুমিন ফারহানা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৬ লাখেরও বেশি ভোটারের এই জেলায় আজ সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ চলছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ৫ লাখ ভোটারের রায় কার দিকে যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।
রুমিন ফারহানা তার সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে থেকে ব্যালট পাহারা দিতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্রের মুখে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগই নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

