নির্বাচনী উৎসবের আমেজের মাঝেও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের আসাদিয়া কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ১১ দলীয় জোট ও এনসিপি প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। তার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে শ্যামলী সুলতানা তার দেবর ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদিয়া কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ করতে যান। কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে একদল সশস্ত্র লোক তাদের পথরোধ করে। শ্যামলী সুলতানার দাবি, বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার প্রত্যক্ষ উসকানিতে এই হামলা চালানো হয়।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে শ্যামলী সুলতানা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন, “বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার দৃশ্য ধারণ করার চেষ্টা করলে তার সাথের লোকেদের ফোনও ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং তার দেবরকে মারধর করা হয়েছে। এ সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হামলার শিকার হওয়ার পর স্থানীয় এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে শুরু করে। এনসিপি প্রার্থীর সমর্থকদের অভিযোগ, নির্বাচনের শুরু থেকেই হাতিয়ায় তাদের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন এবং তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নোয়াখালী-৬ আসনে এবার বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। তবে ভোটের দিনে প্রার্থীর পরিবারের ওপর এমন হামলার ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
হাতিয়ার এই বিচ্ছিন্ন সহিংসতা বাদ দিলে জেলার অন্যান্য কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে বুড়িরচর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

