আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার আর কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা পর্দার আড়ালে কারচুপির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম শেষে এবারের নির্বাচনকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রধান তোরণ হিসেবে দেখছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, গত দেড় দশকে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ফলে এবার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা কোনো অশুভ শক্তি নস্যাৎ করতে পারবে না। নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, একটি সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে, জাতি তা হাতছাড়া করবে না।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনের সদস্যরা কোনো দলীয় প্রভাব ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কার কী রাজনৈতিক আদর্শ আছে সেটা বড় কথা নয়, ভোটের দিন সবাই অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঠাকুরগাঁও সফর স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ঢেউ তুলেছে। ভোটারদের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, তা একটি ল্যান্ডস্লাইড বিজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।
প্রতিপক্ষ ও গঠনমূলক রাজনীতি
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো প্রতিপক্ষকেই দুর্বল মনে করে না এবং প্রতিটি ভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াতসহ কিছু পক্ষ কৌশলগত কারণে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল সংবাদ ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিএনপি ধ্বংসাত্মক নয়, বরং গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, যেখানে ফলাফল যাই হোক না কেন, তা জনগণের রায়ের প্রতিফলন হিসেবে সবাই মেনে নেবে।” তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, বিএনপি সবসময়ই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছে।
উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি
নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ নিয়ে তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও মাদক-চাঁদাবাজমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালু করা, নতুন হাসপাতাল তৈরি এবং সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য। আজ মধ্যরাত থেকেই সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রচার- প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাই শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

