কুড়িগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে এবার মিত্র শক্তি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি দাবি করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সুযোগ না থাকলে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর পুনর্জন্ম সম্ভব ছিল না।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় রিজভী বলেন, “বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দা খুললেই বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে। যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন, তাদের মধ্যে নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না থাকলে এই দেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করার অধিকার পেত না।”
তিনি আরও যোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বদান্যতায় জামায়াত নেতারা এক সময় মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন। অথচ এখন তারাই বিএনপির নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। রিজভীর এই বক্তব্য মূলত জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় দেওয়া জামায়াত নেতাদের এক সাক্ষাৎকারের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, “তারা এখন বলছেন নারী রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারবেন না, জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। অথচ তারা বেগম জিয়ার অধীনে মন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। তাদের এই মানসিকতা প্রমাণ করে যে, তারা ক্ষমতায় আসলে দেশে নারীর কোনো অধিকার থাকবে না। অফিস-আদালত কিংবা রাজনীতি—কোথাও নারীরা যোগ্য সম্মান পাবেন না।”
জনসভায় রিজভী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়েও আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাগারে থাকাকালীন বেগম জিয়ার খাবারে বিষক্রিয়া ঘটানো হয়েছিল। “বেগম জিয়ার ওপর হওয়া সকল জুলুম এবং শেখ হাসিনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়া,”—যোগ করেন তিনি।
কুড়িগ্রামের প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে ইদগাহ মাঠে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ধানের শীষ কেবল বিএনপির প্রতীক নয়, এটি এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার ও কথা বলার অধিকার আদায়ের প্রতীক। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “কুড়িগ্রামের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে ধানের শীষের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।”
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং হাসিবুর রহমান হাসিবসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সকলেই আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রিজভীর এই কঠোর অবস্থান জামায়াত-বিএনপি সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে মিত্র দলের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ কুড়িগ্রামসহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

