নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে বিষাদের ছায়া নেমে এলো টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে। সোমবার দুপুরে শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিলে অংশ নিতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থক। আনন্দ আর স্লোগানের মিছিলে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় নির্বাচনী আমেজ।
নিহতরা হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সেলিমপুর ইউনিয়নের চর পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা জোনাব আলী এবং একই ইউনিয়নের ছোনাট গ্রামের জিয়াউর রহমান। তারা দুজনেই ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সমর্থক ছিলেন এবং ভোটের শেষ দিনের প্রচারে অংশ নিতে শহরে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে বিশাল একটি গণমিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। মিছিলটি শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে জোনাব আলী হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্যদিকে, মিছিলটি যখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করছিল, তখন জিয়াউর রহমান অসুস্থ বোধ করেন।
দুজনকেই দ্রুত উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, জোনাব আলী তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং জিয়াউর রহমানের রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, “আজকের গণমিছিলে গ্রাম-গঞ্জ থেকে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে এসেছিলেন। কিন্তু আমাদের দুই সহযোদ্ধা এভাবে চলে যাবেন, তা কল্পনাও করতে পারিনি। তাদের অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই।”
শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, ঠিক তখনই এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের স্তব্ধতা নেমে আসে। অনেকে বলছেন, প্রচণ্ড ভিড় এবং উত্তেজনার কারণেই বয়স্ক এই দুই ব্যক্তি শারীরিক চাপ সইতে পারেননি।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিরা আগে থেকেই বার্ধক্যজনিত কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, এই মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে এমন মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষতি নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের মনে রেখাপাত করেছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় যেখানে বিজয়োল্লাসের প্রস্তুতি ছিল, সেখানে এখন চলছে দুই কর্মীর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি।

