নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে কোনো প্রকার বাগাড়ম্বর নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও জনগণের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল পথসভায় তিনি বলেন, বিএনপি এমন কোনো প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে চায় না, যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে—এ দেশের জনগণই সব ক্ষমতার প্রকৃত উৎস।
ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তারেক রহমান বলেন, “আমরা আপনাদের সামনে এমন কোনো রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছি না যা ইহজগতে সম্ভব নয়। আমরা সেই অঙ্গীকারগুলোই করছি, যা মানুষের সাধ্যের মধ্যে এবং যা আগামী দিনে দেশ পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
নারী ও যুবকদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা
দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার যে সূচনা করেছিলেন, আমরা তাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।”
তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করে তরুণদের বৈশ্বিক বাজারের জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। যারা বিদেশে কাজ করতে যেতে চান, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে কাউকে ভিটেমাটি বিক্রি করতে না হয়।
কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লবের অঙ্গীকার
কৃষকদের দুর্দিনের বন্ধু হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেব।” এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘হেলথ কেয়ার কর্মী’ নিয়োগ এবং মিরপুর এলাকায় আধুনিক হাসপাতাল ও ঝুলে থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আইনের শাসন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “তাদের আত্মত্যাগ কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না, ছিল একটি স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য। সেই রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে দেশকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন আমরা ভোটের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।”
মিরপুরের এই পথসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থীর সমর্থনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, শ্যামলী ক্লাব মাঠ এবং বাড্ডার সাতারকুল সানভ্যালিতে আরও কয়েকটি পথসভায় অংশ নেন। প্রতিটি সভায় তার মূল সুর ছিল এক—আক্রমণাত্মক গিবত নয়, বরং কর্মমুখী ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়া।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

