নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে নিজের পুরনো ঠিকানায় ফিরলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি ভোটারদের কাছে ভোট চাইলেন কেবল নেতা হিসেবে নয়, বরং ‘এলাকার সন্তান’ হিসেবে। ঢাকা-১৭ আসনের এই নির্বাচনী সভায় তার বক্তব্যে রাজনীতির চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ব্যক্তিগত আবেগ আর নাড়ির টান।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারেক রহমান যখন সভামঞ্চে ওঠেন, তখন ইসিবি চত্বর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগান আর করতালির মাঝে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এরপর সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত সুনিপুণ এক বক্তব্যে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান। শৈশব থেকে কৈশোর—এই মিরপুরেই আমি বড় হয়েছি। আমার ভাই ও আমার সন্তানদের জন্ম এই মাটিতে। এমনকি আমাদের বিয়েও এই এলাকাতেই হয়েছে। তাই আজ যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি, তখন নিজেকে আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য বলেই মনে হচ্ছে।” এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের দোহাই দিয়েই তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি মা-বোন ও ভাইদের কাছে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানান।
ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে আয়োজিত এই পথসভায় জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তারেক রহমান তার বক্তব্য দীর্ঘ করেননি। মাত্র কয়েক মিনিটের বক্তব্যে তিনি ঢাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যাতে তারা যেকোনো সময় নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের কথাও উঠে আসে তার কণ্ঠে। তারেক রহমান ঘোষণা করেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজধানী ঢাকা শহরে নতুন করে ৪০টি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করব। তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা আমাদের অগ্রাধিকার হবে।” এছাড়া স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইসিবি চত্বর থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারও করেন তিনি।
রাজনীতির মাঠে তারেক রহমানের এই ‘হোম গ্রাউন্ড’ আবেগ কাজ করবে কি না, তা নিয়ে চায়ের টেবিলে এখন জোর আলোচনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি মূলত সাধারণ ভোটারদের মজ্জাগত আবেগ ও বিশ্বাস জয় করতে চাইছেন। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি গণসংযোগের এই চিত্র মিরপুরের দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝেও ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
পথসভা শেষে তিনি যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, তখনও চারদিকে স্লোগানে উত্তাল ছিল পুরো এলাকা। নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত দিনে এই আবেগ আর প্রতিশ্রুতির মিশেল ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে নতুন কোনো দিকে নিয়ে যায় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

