সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নামমাত্র নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সিলেটিরা প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতি সচল রাখলেও তারা বরাবরই বৈষম্যের শিকার। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সরাসরি ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে ফ্লাইট পুনরায় চালুসহ বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর সাথে আকাশপথের সংযোগ নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমিরে জামায়াত বলেন, বর্তমানে সিলেটে কেবল লন্ডন থেকে বিমান নামে, আর মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইটগুলো ঢাকা হয়ে আসে। ইউরোপ-আমেরিকায় থাকা বিপুল সংখ্যক সিলেটির জন্য এটি অত্যন্ত অপমানজনক। এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সিলেটকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ হাবে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মৌলভীবাজারের সন্তান ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে স্থানীয় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি চায়ের রাজধানীতে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিক ভাই-বোনদের অবদানের কথা ভুলে যাওয়া মানে নিজেকেই ভুলে যাওয়া। আমাদের সরকার প্রতিটি চা শ্রমিকের সন্তানের জন্য সুশিক্ষা এবং পরিবারের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র এমন এক পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে মেধা থাকলে শ্রমিকের সন্তানও একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।
প্রবাসীদের কল্যাণে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসে কোনো বাংলাদেশী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে আনা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। আমরা এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ব যেখানে সরকারি খরচে প্রবাসীদের মরদেহ সম্মানের সাথে বাংলাদেশে আনা হবে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারের আজীবন দায়িত্ব নিবে রাষ্ট্র। চুরি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা কঠিন কিছু নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে ‘পরিবর্তনের ভোট’ হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। চব্বিশের বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে এই ভোট হবে নতুন বাংলাদেশের জন্মের ঘোষণা।” বক্তব্যের শেষে তিনি কুলাউড়া আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলীর পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, এই আসনে প্রার্থী সায়দ আলী হলেও ছায়া প্রার্থী হিসেবে আমি নিজেই আছি।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রায় পাঁচ হাজার নারীসহ হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো কুলাউড়া শহর নির্বাচনী আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। বক্তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

