জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ধরনের অপকর্ম বা জননিপীড়ন সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, যারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের নেতৃত্বে আসার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। গত দেড় বছর ধরে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই সভায় সাদিক কায়েম বিগত শাসন আমলের জুলুম ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে ডাকসু ভিপি বলেন, এই জনপদ অতীতে চরম অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ অঞ্চলের অন্তত ৪৮ জন মানুষ গত কয়েক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু তারা আদর্শের প্রশ্নে কখনো মাথা নত করেননি। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর মানুষ আশা করেছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ পাবে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে এখনো কৃষকের অর্থ আত্মসাৎ ও মানুষের ওপর জুলুম বন্ধ হয়নি। এই ধারা রুখে দেওয়ার সময় এসেছে।
সাদিক কায়েম আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী দিনে আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এমন এক বাংলাদেশ গড়া হবে যেখানে হিংসা, দুর্নীতি কিংবা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকবে না। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কেবল তাদেরকেই নেতা হিসেবে বেছে নেবেন, যাদের কাছে দেশ, সমাজ এবং আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদ থাকবে।”
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা। উপস্থিত বক্তারা সবাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে খুলনা অঞ্চলের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বক্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামীর নেতৃত্ব হবে সৎ এবং জনবান্ধব, যেখানে চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না।

