আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন তুঙ্গে। এই আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই নির্ধারণ করবে দেশ ইনসাফভিত্তিক সমাজের পথে হাঁটবে, নাকি নতুন কোনো স্বৈরাচারের কবলে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরশহরের ইসলামবাগ এলাকায় ফুলকুঁড়ি শিশু একাডেমি মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
নব্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
সারজিস আলম তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট বিভাজন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে রাজনীতিতে দুটি পক্ষ—একটি জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ শক্তি, অন্যটি বিএনপি ও তাদের জোট।” তিনি ভোটারদের বিগত দেড় বছরের কর্মকাণ্ড বিচার করার আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “যারা এই দেড় বছরে মানুষের ওপর জুলুম, হুমকি, মাদক ব্যবসা ও মামলা বাণিজ্য করেছে, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে তারা আগের চেয়েও বড় স্বৈরাচার হয়ে উঠবে। যদি আপনারা মনে করেন আমাদের জোট এসব অপকর্ম করেছে, তবে আমাদের ভোট দেবেন না। আর যদি মনে করেন বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীরা এসব করেছে, তবে তাদের বর্জন করুন।”
প্রচারণায় বাধা ও স্বৈরাচারী মানসিকতা
ভজনপুর ইউনিয়নের একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, “শাপলা কলি (এনসিপির প্রতীক) প্রতীকের প্রচারণায় গেলে কয়েকজন নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে বলা হয়েছে এটি অমুক দলের এলাকা, এখানে প্রচার করা যাবে না। এই ধরনের আচরণই প্রমাণ করে কারা ভেতরে ভেতরে স্বৈরাচারী মানসিকতা লালন করছে।”
‘বিবেক দিয়ে ভোট দিন, মার্কার দাস হবেন না’
নেতৃত্বের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে সারজিস আলম বলেন, “যারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়ান বা নিজেরা বিদেশে চিকিৎসা করান, অথচ দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেন, তারা কখনো জনগণের নেতা হতে পারেন না।” তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো দল বা মার্কার অন্ধ দাস না হয়ে নিজের বিবেক দিয়ে সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমার কাছে ভোট কেনার মতো চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার কোনো অবৈধ টাকা নেই। আমার একমাত্র শক্তি মহান সৃষ্টিকর্তা এবং আপনাদের ভালোবাসা। আপনারা সচেতনভাবে ভোট দিলে ইনশাআল্লাহ পঞ্চগড় তথা বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূর্য উঠবে।”
নির্বাচনী সমীকরণ
পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের এই ‘ইনসাফভিত্তিক সমাজ’ গড়ার ডাক তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানী হিসেবে তার পরিচিতি এই নির্বাচনে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখে, তা দেখার জন্য এখন ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষা।

