বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান আসবে ব্যালটের মাধ্যমে। তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের পর বিভিন্ন সহিংসতায় দেশে ২৩১ জন মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে, যার দায়ভার তিনি বিএনপির ওপর চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, “যাদের কাছে নিজেদের কর্মীর জীবনের দাম নেই, তাদের কাছে জনগণেরও কোনো মূল্য নেই।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টায় দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের পল্লবী মোড়ে এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনাজপুর-৬ আসনে (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
এক সময়কার রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, “অনেকে মনে করছেন বিএনপির ভোটেই জামায়াত নির্বাচিত হবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মানুষ এখন সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্ব চায়।” তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে যে ২৩১ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তার কোনো বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
‘শাসক নয়, সেবক চাই’
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরে শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে তরুণরা চাকরির জন্য হাহাকার করবে না। সংসদে যদি একদল সৎ লোক গিয়ে দাঁড়ায়, তবে দেশটা ইনশাআল্লাহ আমূল বদলে যাবে। আমরা শাসক চাই না, আমরা চাই জনগণের সেবক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের মানুষ আগামী ১২ তারিখে (নির্বাচনের দিন) এক নতুন সকালের অপেক্ষায় আছে। ইনশাআল্লাহ, সেদিন নতুন এক সূর্যের উদয় দেখবে এ দেশের শান্তিকামী মানুষ।”
নির্বাচনী লড়াই ও জয়ের সংকল্প
দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামকে বিজয়ী করতে সর্বস্তরের মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিবগা বলেন, “আনোয়ারুল ইসলাম ভাইকে বিজয়ী করতে আপনারা কি প্রস্তুত? ১২ তারিখ প্রতিটি ভোট দাঁড়িপাল্লায় দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আমরা গণনার ফলাফল সরাসরি ইউএনও অফিস থেকে বুঝে নেব।”
নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে সম্প্রতি দিনাজপুর-৬ আসনের বিভিন্ন স্থানে আনোয়ারুল ইসলামের বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিলবোর্ড ছিঁড়ে বা ভয় দেখিয়ে জামায়াতকে দমানো যাবে না।”
পথসভায় স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৬ আসনে এখন বইছে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক টানটান উত্তেজনা।

