আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশ ও জাতিকে একটি সুন্দর, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে পুরো জাতি তাকিয়ে আছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বরগুনা সদর নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে দায়িত্বরত সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের চেয়ে দ্বিগুণ সদস্য মোতায়েন
নৌপ্রধান জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার রেকর্ড সংখ্যক নৌ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অতীতের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি অনেক বেশি। শুধু নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেই আমরা প্রায় ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি, যা গত নির্বাচনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।”
উপকূলীয় ১৯টি জেলা ও বিভিন্ন দুর্গম দ্বীপ অঞ্চলে নৌবাহিনীর জাহাজ, জলযান এবং কোস্টগার্ডের সহায়তায় নিটোল নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ নৌবাহিনী কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তায় বিশেষ জোর
অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান তার বক্তব্যে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েক দিনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের দিন এবং এর পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন আমাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।”
এলাকাভিত্তিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নৌবাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের নির্ভয়ে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য
নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও, নির্বাচনী সরঞ্জাম রক্ষা এবং ভোটারদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করাকে নৌবাহিনী তাদের প্রধান দায়িত্ব মনে করছে। নৌপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, “ব্যালট বক্স ও পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানো থেকে শুরু করে ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নৌবাহিনী মাঠে থাকবে। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করব।”
সবশেষে তিনি দেশপ্রেমের সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফেরার আহ্বান জানান। বরগুনা সফরকালে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

