আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজপথের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই লড়াইয়ে বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক ‘লাল কার্ড’ দেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই রাশেদ প্রধান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘লন্ডনের মুফতি’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, লন্ডন থেকে এসে তিনি নতুন করে ইসলামের ইতিহাস ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
‘লন্ডনের মুফতি’ ও ইতিহাসের বিকৃতি
তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রাশেদ প্রধান বলেন, “লন্ডন থেকে একজন মুফতি এসেছেন, তাকে কি আপনারা চেনেন? তিনি আসার পর এখন ফতোয়া দিচ্ছেন কে মুসলমান, কে বিধর্মী। এমনকি তিনি ইসলামের ইতিহাস বিকৃত করে বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা.)-এর নাম জড়িয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছেন।”
জাগপা মুখপাত্র আরও বলেন, যারা ১৬ বছর ধরে জামায়াত-শিবিরকে মাঠে দেখেনি বলে দাবি করে, তারা আসলে একাত্তরের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাসকে মুছে দিতে চায়। এই ‘নব্য জালেম’ শক্তিকে রুখে দেওয়ার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হ্যাকিং ও ‘আই হ্যাভ প্ল্যান’-এর ষড়যন্ত্র
নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বিএনপি ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখানে নারীবিদ্বেষী পোস্ট দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ প্ল্যান’-এর যে নীল নকশা শুরু হয়েছে, তা ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে ধূলিসাৎ করে দিতে হবে। ১১ তারিখ রাত থেকে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকতে হবে।”
মা-বোনদের সুরক্ষা ও প্রতিরোধের ডাক
নারীদের মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থাকার ঘোষণা দিয়ে রাশেদ প্রধান নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন, “যদি কোনো মা-বোনকে কেউ অপমান করার চেষ্টা করে, তবে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। ওই নব্য জালেমদের কালো হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবেন। যদি মামলা হয়, তবে বলবেন রাশেদ প্রধান হুকুম দিয়েছিল; আমার নামে মামলা দিতে বলবেন।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট নয়, বরং একটি ‘গণভোট’ও অনুষ্ঠিত হবে। সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন চান এই নেতা।
জনসভার আবহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নির্বাচনি এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিসহ জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। জনসভাকে কেন্দ্র করে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে জোটের শক্তির জানান দিচ্ছে।

