শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং এই ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাজধানীর হেয়ার রোডে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে নিহত হাদির স্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাও অংশ নিয়েছেন।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ এবং অপরাধীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করার দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচি ডাক দেওয়া হয়। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত তারা যমুনার গেট থেকে সরবেন না।
শহীদের স্ত্রীর আকুতি ও অনড় অবস্থান
শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজেই এই আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যমুনার সামনে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জুমা লিখেছেন, “জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত শুরু করতে হবে। এই দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ এবং আমি নিজে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছি। আমরা চাই না এই বিচারিক প্রক্রিয়া কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হোক।”
‘আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত যাব না’
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন কোনো পরিস্থিতি আমরা তৈরি করতে চাই না। তাই সুশৃঙ্খলভাবে আমরা অল্প কয়েকজন প্রতিনিধি এখানে এসেছি। বিচারের সুনির্দিষ্ট এবং পরিপূর্ণ আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে নড়ব না।”
জাবের আরও যোগ করেন যে, ইনকিলাব মঞ্চের শক্তির অভাব নেই, চাইলে হাজার হাজার মানুষকে এখানে জড়ো করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তারা সরকারকে সম্মান জানিয়ে একটি নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় শহীদ পরিবারের দাবি পৌঁছে দিতে চান। তাদের প্রধান দাবি হলো—হাদি হত্যার তদন্তে যেন জাতিসংঘের একটি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ দল যুক্ত হয়।
বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বার্তা
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের মতে, অতীতে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিয়ে যে টালবাহানা হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে তেমনটা হতে দেওয়া হবে না। তারা মনে করেন, জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা থাকলে এই মামলার তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং দায়ীদের শাস্তির পথ প্রশস্ত হবে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও যমুনার সামনের ফুটপাতে বসে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছিলেন জুমাসহ নেতাকর্মীরা। যমুনার ভেতরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিচারপ্রত্যাশী এই ছোট দলটি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অপেক্ষা করছে রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক বার্তার।

