নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের সমালোচনা থাকাটা গণতান্ত্রিক রীতি, কিন্তু সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার বা প্রতারণামূলক বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য মানুষকে ধোঁকা দেওয়া বা সস্তা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার মোতালেব প্লাজা ফ্ল্যাট মালিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটির এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মির্জা আব্বাসের সরব পদচারণা ও জনসংযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
সততার রাজনীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ
নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা সাচ্চা মুসলমান, আমরা মিথ্যা কথা বলি না। আমাদের ঈমান আছে, আমরা মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি। তাই ভোট পাওয়ার লোভে বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমি দেশবাসীর সামনে কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেব না।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি হবে নিজের অতীত কাজের খতিয়ান এবং ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করে তিনি সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে চান না বলেও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন।
কেন্দ্র পাহারা ও ভোটের অধিকার
ঢাকা-৮ আসনের এই হেভিওয়েট প্রার্থী দেশবাসীর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক রক্ত আর সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। আমার বিশ্বাস, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আপনাদের সেই পবিত্র অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করবেন।”
নির্বাচনী কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার কথা উড়িয়ে না দিলেও তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রে ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি কর্মী সেখানে উপস্থিতি বজায় রাখবে। তবে মনে রাখবেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। কেউ কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা ঝগড়ায় জড়াবেন না। আমরা ভোটের মাধ্যমেই জবাব দেব।”
এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকার
মতবিনিময় সভায় মোতালেব প্লাজার ফ্ল্যাট মালিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মির্জা আব্বাসের কাছে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সবার কথা ধৈর্য ধরে শোনার পর তিনি বলেন, “আপনাদের পাশে আমি সবসময় ছিলাম, আগামীতেও থাকব। যদি আপনাদের রায়ে নির্বাচিত হতে পারি, তবে এই ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ হুঙ্কার দিয়েই বলেন, “ভোটে আমরা শান্ত থাকব, কিন্তু নির্বাচনের পর যদি কেউ আমাদের ওপর অন্যায় কিছু চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার পূর্ণ প্রস্তুতি আমাদের আছে।” এলাকাবাসীকে গত কয়েক দশকের দুঃশাসন ভুলে বুক ভরা সাহস নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

