আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বেই ঠাকুরগাঁও জেলার সাতটি থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিরপেক্ষ রাখা ও জনগণের আস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লটারির মাধ্যমে এই কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তাঁদের পদায়নের নির্দেশ জারি করা হয়। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন পদায়নকৃত সাতজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তালিকা নিম্নরূপ: ঠাকুরগাঁও সদর থানা: মোহাম্মদ মনির হোসেন, রুহিয়া থানা: মো. বদিউজ্জামান, ভুল্লী থানা: মিন্টু দে, বালিয়াডাঙ্গী থানা: মো. বুলবুল ইসলাম, পীরগঞ্জ থানা: মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, রাণীশংকৈল থানা: মো. আমানুল্লাহ আল বারী, হরিপুর থানা: মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ৬৩৯টি থানা রয়েছে, যার মধ্যে জেলা পর্যায়ে থানার সংখ্যা ৫২৭টি। ঠাকুরগাঁও জেলায় নতুন পদায়ন পাওয়া এই কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নিজ নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৃহৎ পরিবর্তন স্থানীয় জনসাধারণ ও সুশীল সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঠাকুরগাঁও শহরের ব্যবসায়ী কামরুল বলেন, “নির্বাচনের সময় পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে থাকে। নতুন ওসিরা সঠিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা আশা করি।”
শিমুল নামের এক স্থানীয় যুবক এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “কিছু থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ ছিল। এবার লটারির মাধ্যমে ওসি নিয়োগ হওয়ায় অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করছে।” আরেকজন সাধারণ নাগরিক মন্তব্য করেন, “নির্বাচনের সময় গ্রামে উত্তেজনা বাড়ে। পুলিশ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই ভোট দিতে পারে।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত করার জন্য জেলায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতের অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ না থাকে। পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে সন্দেহ বা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, তা দূর করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে প্রতীয়মান হয়। এই পরিবর্তন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

