কক্সবাজারের রামুতে নিজ খামারবাড়ি থেকে নজরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত নজরুল ইসলাম রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জোয়ারিয়ানালা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খামারবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি এক ধরণের রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: শ্রমিকদের খাবার দিতে গিয়ে আর ফেরেননি
নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার রাতে খামারে কর্মরত শ্রমিকদের রাতের খাবার পৌঁছে দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। খাবার দিয়ে ফেরার কথা থাকলেও দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর শ্রমিকরা খামারের ভেতরে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আঘাতের চিহ্ন ও ঘনীভূত রহস্য
ঘটনাটিকে কেবল ‘আকস্মিক মৃত্যু’ হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নিহতের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, নজরুলের শরীরে, বিশেষ করে হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমদ প্রিন্সও মরদেহে আঘাতের চিহ্নের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে।
পুলিশের অবস্থান ও ময়নাতদন্ত
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছিল। তবে মরদেহে সন্দেহজনক আঘাতের চিহ্ন থাকায় এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ওসি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করেছে।”
নির্বাচনী মৌসুমে জেলাজুড়ে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলছে, তখন ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন সক্রিয় নেতার এমন মৃত্যু স্থানীয় রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। কক্সবাজার জেলা বিএনপি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

