জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই বছরও দেশের সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের মতো চলতি বছরেও সরকার ভ্যাট দিবস উপলক্ষে সেরা ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার রেওয়াজ থেকে সরে আসছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং আর্থিক ব্যয় কমানোর নীতির অনুবর্তিতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে, ভ্যাট প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এনবিআর জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ ৯টি ভ্যাট প্রদানকারী এবং জেলা পর্যায়ে আরও ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করে আসছিল। তবে গত বছর ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই আয়োজন স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পদ্ধতি সংশোধন করে পুনরায় এই সম্মাননা চালু করা হবে। কিন্তু সেই উদ্যোগ এখনও কার্যকর রূপ পায়নি।
আসন্ন ১০ ডিসেম্বর ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ‘ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫’ পালন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনবিআর। এ উপলক্ষে সংস্থাটি গত নভেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে সভাপতি করে গঠিত এই নয় সদস্যের কমিটিতে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠান উদযাপন উপ-কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও সর্বোচ্চ মূসক পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার (সম্মাননা ও ক্রেস্ট) প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” কার্যবিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫ উদযাপনের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভ্যাট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় এবং সরকারের ব্যয় সংকোচ নীতি অনুসরণ করেই এবারও এই সম্মাননা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, এনবিআর ২০০৫ সাল থেকে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাদের জন্য পুরস্কার ও সম্মাননা নীতিমালা চালু করে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে নিয়মিতভাবে সেই নীতিমালার আওতায় সম্মাননা দিয়ে আসছিল।
যদিও সম্মাননা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে, তবুও সরকার আর্থিক ব্যয় কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করে সীমিত আকারে এবারের দিবসটি উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবারের আয়োজনটি হবে অনাড়ম্বরপূর্ণ হলেও সুসংগঠিত।
‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫’ উপলক্ষে ব্যাপক প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হবে নতুন ভ্যাট নিবন্ধনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এর অংশ হিসেবে, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগম হয় এমন স্থান—বিশেষ করে সড়ক, সড়কদ্বীপ, ফ্লাইওভার এবং ওভারব্রিজ—ব্যানার, রোল ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দ্বারা সজ্জিত করে প্রচার চালানো হবে।
এছাড়াও, নতুন ভ্যাট নিবন্ধন বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব ভ্যাট কমিশনারেট, বিভাগ ও সার্কেলগুলোতে ‘সেবা কেন্দ্র/বুথ/ডেস্ক’ স্থাপন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন শপিং মল ও বাজারের অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান এবং ভ্যাটকেন্দ্রিক সমস্যাগুলোর সমাধান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এনবিআর একদিকে যেমন ব্যয় কমিয়ে আনছে, অন্যদিকে কর রাজস্ব বৃদ্ধি ও ভ্যাট ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণে মনোযোগ দিচ্ছে। এই কৌশলটি বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

