ভোটের আমেজ ছাপিয়ে নওগাঁয় এখন বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নওগাঁ সদর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে ঘটা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে। নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আ স ম সায়েম বিকেলে মাখনা কোমলগোটা গ্রামে নির্বাচনী গণসংযোগে যান। প্রচারণা শেষে তিনি স্থানীয় জামায়াত কর্মী শহীদ মোল্লার বাড়িতে বিশ্রামের জন্য অবস্থান করছিলেন। সেখানে দুপুরের খাবারেরও আয়োজন ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত প্রার্থীর অবস্থানের সময় পার্শ্ববর্তী গোপাই গ্রামের কয়েকজন বিএনপি কর্মী সেখানে গিয়ে খাবারের প্রস্তুতির ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। জামায়াত সমর্থকরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে তা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই দলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী জখম হন।
খবর পেয়ে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জামায়াত কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ এবং দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আহতদের মধ্যে জামায়াতের চারজন এবং বিএনপির একজন কর্মীকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতের আহতরা হলেন—হাসান প্রামাণিক (৩৮), জাহিদ হাসান (২৫), মোস্তাফিজুর (৫৮) ও রুস্তম আলী (৪০)। অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মী রাকিব হাসানের (২০) দাবি, তারা কেবল ভিডিও করতে চেয়েছিলেন কিন্তু জামায়াতের ৬০-৭০ জন লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এই ঘটনা নিয়ে দুই দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম দাবি করেন, “সায়েম ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বিএনপি সন্ত্রাসীরা পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমাদের আটজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে, নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “হামলা বরং জামায়াতের লোকরাই করেছে। কয়েকদিন আগে আমাদের প্রার্থীর খাবারের আয়োজন তারা প্রশাসন দিয়ে পণ্ড করে দিয়েছিল। আজ তারাই খাবারের আয়োজন করে আমাদের ছেলেদের মারধর ও মোবাইল ভাঙচুর করেছে।”
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের মাত্র ৯ দিন আগে এ ধরনের সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

