সমুদ্রতীরের শহর কক্সবাজারে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের এক নতুন দিশা তুলে ধরেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম প্রচলিত ‘বস্তাপচা’ এবং উত্তরাধিকার ভিত্তিক রাজনীতির ধারাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে—এই সামন্ততান্ত্রিক রাজনীতি আমরা আর চাই না। আমাদের স্বপ্ন একটি ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে মেধাবীরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ডাকসু থেকে জকসু পর্যন্ত ছাত্রসমাজ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা পুরোনো ধারার রাজনীতির সাথে নেই।
কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমীর বলেন, “কক্সবাজার কেন সিঙ্গাপুর হতে পারল না? এর প্রধান কারণ হলো একদল ব্যাংক ডাকাত, যারা দেশের সম্পদ লুটে নিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনব।” তিনি কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পর্যটন নগরী এবং এখানে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তিনি ‘জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বগলে ঋণখেলাপি রেখে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জনগণের সেবক হতে হবে।” শহীদ আবু সাঈদ ও ওসমান হাদীর খুনিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জনসভায় কক্সবাজারের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, পরিবর্তনের সূচনা হবে উখিয়া-টেকনাফ থেকে। কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর গত ৫৪ বছরের লুটপাটের রাজনীতির অবসান ঘটানোর শপথ নেন এবং কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক শিক্ষা ও চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলেন।
এর আগে হেলিকপ্টারযোগে মহেশখালীতে পৌঁছে সেখানেও একটি জনসভায় যোগ দেন ডা. শফিকুর রহমান। আজকের এই কর্মসূচিকে ঘিরে পুরো কক্সবাজারে জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। সমাবেশে জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জাহাঙ্গীর কাসেম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

