নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে এবার অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন উপদেষ্টা। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। প্রার্থীরা ভোটার টানার জন্য অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, যা কেবলই নির্বাচনী কৌশল। তবে আমরা আমাদের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখছি।”
এবারের নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিশাল এক বাহিনী মোতায়েন করছে। উপদেষ্টা জানান, সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৫ হাজার নৌবাহিনী, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র্যাব এবং ৫ হাজার কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ভোটের মাঠে মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় এবার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জনবল বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, “এবার প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ড্রোন ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গায়ে থাকবে বডি ক্যামেরা। ফলে প্রতিটি পদক্ষেপ ডিজিটাল রেকর্ডে থাকবে।” এছাড়া এবার নির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেটদেরও বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এর আগে ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে দুর্গাপূজা যেমন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে নির্বাচনও হবে উৎসবমুখর ও নিরাপদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের এই নির্বাচন একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপদেষ্টা সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালনের আহ্বান জানান।

