নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে ভোলার রাজনৈতিক ময়দান এখন বেশ সরগরম। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এক বিশাল জনসভায় দাবি করেছেন, দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত থাকলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তার এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ঘুইংগারহাট সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি ও বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পার্থ তার স্বভাবসুলভ বাগ্মিতায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোলার উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ কথা বলেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ সমর্থিত ‘গরুর গাড়ি’ মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
ব্যারিস্টার পার্থ তার বক্তব্যে ভোলার অনুন্নত অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মোটরসাইকেলে এবং পায়ে হেঁটে ভোলার গ্রামগঞ্জ চষে বেড়িয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোলার রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মিত হয়নি, যা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এমনকি জেলায় কোনো মেডিকেল কলেজ না থাকায় সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে ছুটতে হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্থ বলেন, ভোলায় শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের জন্য কাজের কোনো সংস্থান নেই। এই স্থবিরতা কাটাতে তিনি ক্ষমতায় গেলে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি মনে করেন, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই জেলাকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা সম্ভব।
তবে উন্নয়নের কথার পাশাপাশি এদিন পার্থের বক্তব্যে উঠে আসে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ। জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে কিছু দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তার অভিযোগ, জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো অবাস্তব ও বিতর্কিত কথা বলে সমাজে ফেৎনা সৃষ্টি করছে। তিনি সাধারণ মানুষকে এসব উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার এবং সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
জনসভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং শফিউর রহমান কিরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন ও ইসি এখনো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্বাচনী আমেজকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজেপি ও বিএনপির এই যৌথ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় নেতা এনামুল হক। বক্তারা প্রত্যেকেই আগামীর বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। তারা মনে করেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দেশের দায়িত্ব গ্রহণ এখন জনগণের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
ভোলার সদর আসনের এই নির্বাচনকে পার্থের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে যেমন তাকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং প্রতিপক্ষ শিবিরের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোলায় পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

