নারায়ণগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সদর উপজেলার দেলপাড়া এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করায় এক প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর। তিনি জানান, দেলপাড়া লিটল জিনিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী (প্রতীক: খেজুর গাছ)।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণবিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। বিধিমালাটির ১৫(খ) ধারার এই সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানের সময় আয়োজক ও প্রার্থীর প্রতিনিধি নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, দোষ স্বীকারোক্তির পর আচরণবিধিমালার ২৭(ক) ধারা মোতাবেক প্রার্থীর উপস্থিত প্রতিনিধিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। অভিযানে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয় যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি প্রতিপালনে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যবহার করার বিষয়ে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নারায়ণগঞ্জের এই ঘটনাটি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
মনির হোসাইন কাসেমী বিএনপি জোটের অন্যতম প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তবে এই জরিমানা প্রসঙ্গে প্রার্থীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের জরিমানা প্রার্থীর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

