ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ততই সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। এবার নির্বাচনী ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে মধুখালী উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দস্তুরদিয়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাশার খানের একনিষ্ঠ সমর্থক রবিন ও আলিফ। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যানার টানাতে গিয়েছিলেন ওই দুই তরুণ। এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জিহাদ নামের এক যুবক তাদের বাধা দেয়।
আহতদের পরিবারের দাবি, জিহাদ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে, “এটা বিএনপির এলাকা, এখানে অন্য কারও ব্যানার চলবে না।” বাদানুবাদের এক পর্যায়ে জিহাদ সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রবিন ও আলিফকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। তাদের চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খান বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণার অধিকার সবার আছে। আমার লোকজনকে ‘বিএনপির এলাকা’ বলে শাসিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এভাবে হামলা ও ভীতি প্রদর্শন চললে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আমার নেতা-কর্মীরা চাকু মারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যতটুকু শুনেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যক্তিগত অনেক দেনা-পাওনা নিয়ে ঝামেলা আছে। পাওনাদারদের সাথে কোনো ঝামেলা হয়ে থাকলে সেটি আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এদিকে পুলিশের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাইজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত যুবক জিহাদ এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এটি রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ওসি আরও বলেন, “ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি সত্য, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব।” নির্বাচনের আগে এমন সহিংসতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।

