দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরেন্দ্রভূমির পুণ্যভূমি রাজশাহীতে পা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি রেশম নগরীতে পৌঁছান। সফরের শুরুতেই তিনি সরাসরি চলে যান সুফি সাধক হযরত শাহ মখদুমের (রহ.) মাজারে। সেখানে জিয়ারত ও মোনাজাতের মাধ্যমে তিনি রাজশাহীতে তার নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে তার গাড়ি বহর দরগাহ শরীফে পৌঁছায়। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন। এর আগে দরগাহ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সর্বশেষ ২০০৪ সালে একটি প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মিছিল নিয়ে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মোহাম্মদ মহসিন সরকারি বিদ্যালয় মাঠ) সমবেত হতে শুরু করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তারেক রহমান জনসভাস্থলে পৌঁছান। দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া এই বিশাল জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। মঞ্চে তার উপস্থিতির সাথে সাথেই পুরো এলাকা ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বিএনপির ভিত আরও শক্ত করার একটি কৌশল। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর তার সশরীরে উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। জনসভা উপলক্ষে মাঠের চারপাশে বড় চারটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে যাতে বাইরে থাকা মানুষও বক্তব্য শুনতে পারেন।
জনসভা শেষে তারেক রহমানের নওগাঁ হয়ে বগুড়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাতে আলতাবুন্নেসা খেলার মাঠে আরেকটি জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি নিজ জেলা বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শুক্রবার রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও জনসভার কর্মসূচি রয়েছে তার। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর তার এই ঝটিকা সফর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

