দেশের সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের রীতিমতো চমকে দিয়ে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। সব রেকর্ড ভেঙে মাত্র এক দফাতেই প্রতি ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকা। ফলে দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা দেয়। আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি সোনার (পিওর গোল্ড) সংকট এবং আকাশচুম্বী দামের কারণেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সমিতি।
সোনার বাজারের এই অস্থিরতা কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম এখন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য সূচক ‘গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’-এর তথ্যমতে, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে গুণতে হবে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায়।
স্বর্ণের দাপটে পিছিয়ে নেই রুপার বাজারও। মধ্যবিত্তের নাগালে থাকা এই ধাতুটির দামও এখন আকাশছোঁয়া। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা। ২১ ক্যারেট ৮ হাজার ১৬৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকায়।
বাজারে হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে যারা গয়না তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে দেশীয় বাজারে এই সমন্বয় ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। তবে সোনার দাম আড়াই লাখের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাজারে কেনাবেচায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েক মাস ধরেই স্বর্ণের বাজার ছিল অস্থির, কিন্তু একদিনে ১৬ হাজার টাকা বৃদ্ধির ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটি এখন সাধারণের নাগালের কতটা বাইরে চলে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

