সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আবারও কেঁপে উঠল টেকনাফের শান্ত জনপদ। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র ছোঁড়া গুলিতে এবার নাফ নদে মাছ ধরতে যাওয়া দুই বাংলাদেশি কিশোর জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জিমংখালী ও কাঞ্জর পাড়া সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত জেলেরা হলেন—হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়া এলাকার মো. সোহেল (১৬) এবং একই এলাকার মো. আব্দুল্লাহ (১৭)। বর্তমানে তাঁরা উখিয়ার কুতুপালংস্থ এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের শরীরে গোলার স্প্লিন্টার বা বুলেটের আঘাত রয়েছে।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে সোহেল ও আব্দুল্লাহ নাফ নদীর জিমংখালী সীমান্তে মাছ ধরছিল। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে হঠাৎ তাঁদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই গুলি তারাই ছুঁড়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই কিশোরকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের লড়াই চললেও সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ১১ জানুয়ারিও হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে সুমাইয়া হুজাইফা নামের ১১ বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছিল, যে এখনো ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
নাফ নদে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বারবার বাংলাদেশিদের ওপর এই হামলার ঘটনায় টেকনাফের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এখন তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। বিজিবি (BGB) সদস্যরা সীমান্তে টহল বৃদ্ধি করলেও ওপার থেকে আসা এই অতর্কিত হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের আঁচ যেভাবে বারবার বাংলাদেশের সীমানায় আঘাত হানছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

